আমাকে সত্যিকারের ভালোবাসলে
তোমার সমস্ত হিজিবিজি
অক্ষাংশ দ্রাঘিমা মুছে যাবে
মেরু আর মরুর বিপর্যয়তা কেটে
গিয়ে
পুরো পৃথিবীটা হয়ে উঠবে-
একটি আয়তকার গোলাপ বাগান,
স্নেহময় ভোরের শিশির আর উষার
আলোকিত এভয়ে
ঠিক সেদিন থেকেই, ক্ষমাহীন
বেকুব সূর্যখন্ডও
হাসতে হাসতে হবে শীতাতপ
নিয়ন্ত্রিত
নাতিশীতোষ্ণ আনন্দে বিহবলিত
হবে প্রতিটি মুর্হর্ত।
আমাকে সত্যিকারের ভালোবাসলে
তোমার তাম্র লৌহ প্রস্তুর
যুগ একই সমান্তরালে দাড়াবে
প্রাগৈতিহাসিক আর ঐতিহাসিক
একঘাটে এসে জল খাবে
বির্বতনের আলোকিত গান শুনে
শুনে আধুনিক হবে
ম্যযুগের রাজকীয় খচ্চর, ও
গর্দভেরা
ঠিক সেদিন থেকেই,
বিত-ইতিহাসের পাতা থেকে শুর্হর্তেই উধাও হবে প্রতিটি অক্ষর, দাড়ি কমা, সেমিকোলন
নির্যাতিত মানুষের দলিলে ভরে
উঠবে প্রতিটি আর্কাইভ
মিউজিয়ামের প্রত্যেকটা র্যাকে
শোভা পাবে অনার্য মানুষের
ঘাম ও রক্তের ফলিস।
আমাকে সত্যিকারের ভালোবাসলে
তুমি নিমেশেই ভুলে যাবে
হাইট্রোজেন হিলিয়াম অক্রিজেনের নামাবলী
নিউক্লিয়াস ইলেকট্রন
প্রোটনের শৃংখল ভেঙে তুমি ছুটবে আমাতেই
তোমার সমস্ত চৌম্বকত্ব অকেজো
করে
পৃথিবীর তাবত কাটা কম্পাস
নির্দেশিত করবে আমার হৃদয়কে আর-
বিদ্যুতের সমস্ত প্রবাহ এসে
ঠেকবে আমাদের শিরা-উপশিরায়
ঠিক সেদিন থেকেই
আকস্মাত আবিস্কার হবে
‘‘ভালোবাসা’’ নামক আনবিক শক্তি মানবিক উতসে
আবিস্কার হবে সপ্রমাণ আটটি
জলজ্যান্ত দোজখও
সাতটি ফুলেল বেহেশতের,
মানুষের মস্তিস্কের কোষে।
আমাকে সত্যিকারের ভালোবাসলে,
তোমার সমস্ত উপন্যাস গল্প
কবিতা প্রবন্ধ নাটক
একই শব্দ উচ্চারণ করবে
বারংবার
একই গানের খসড়ায় কণ্ঠ মেলাবে
তারা কোরাশে
‘‘ভালোবাসা!!! ভালোবাসা!!!
ভালোবাসা!!!
তোমার সমস্ত সারাংশ
ভাবসম্প্রসারণ সন্ধিও সমাস
রচনা ও পত্র, অনুবাদ শব্দ ও
প্রতিশব্দ
হয়ে উঠবে ক্রমে শ্রুতিমধুর
রোমান্টিক গীতিকাব্য
ঠিক সেদিন থেকেই পৃথিবীর কোন
অভিধানে থাকবেনা যুদ্ধ ও ধর্ষণ
শোষণ বেয়নট রাইফেল, হত্যা
জুলুম
আমাকে সত্যিকারের ভালোবাসলে,
তুমি টের পাবে
একটি ছোট্ট নদীর প্রবাহ
বুকের ভেতর
একটি দ্বিতীয় সূর্যের উড্ডয়ন
রক্তের ভেতর
একটি অটুট বন্ধনের নিবিড়তা
মুঠোর ভেতর
একটি প্রাত্যাহিতক ভূকম্পের
আভাস স্নায়ু’র ভেতর
একটি সুরক্ষার নরম ঢালের
দশটি আঙুল
স্থির অথচ
তোমার উজ্জ্বল মুখের
চারপাশে।