নতুন কণ্ঠস্বর সমকালীন বাংলা
সাহিত্য, সুপ্রভাত সাহিত্য পরিষদ, কুষ্টিয়া কর্তৃক আয়োজিত একটি বর্ণিল জীবন
দর্পনের আলোক্ছটা। একটি মহতী উদ্যোগ। একটু ব্যক্তিগত অবতারণার আলোকে বলছি; ‘নতুন
কণ্ঠস্বর’ এর উপদেষ্টামন্ডলীর একজন সদস্য। তাই দু’একটি না বলা কথা ব্যক্ত করে,
আমার দীর্ঘদিনের বেদনাপুঞ্জের মেঘসদৃশ্য কিছু বৃষ্টি কণার আলোকপাত করবো মাত্র।
‘সুপ্রভাত সাহিত্য পরিষদ,
কুষ্টিয়া’ এর সকল সদস্যই আমার পরিচিত এবং প্রত্যেকেই আমার অনুজ। কারো সাথে রয়েছে
আমার রক্তের সম্পর্ক। তাই আমার স্নেহাশীষের আবেগ আজ ফল্লুধারা। হ্যা তোমাকেই বলছি,
যদি তুমি চোখ মেলো বাংলা সাহিত্যের দিকে, তাহলে দেখবে জ্বলছে হাজার হাজার প্রদীপ।
যার দু’একটি আজ তোমরা মেলে ধরেছো, মেলে ধরতে চেয়েছ। বুক ভরে যায় সেই আলোকের
ঝরনাধারায়; সেই আলোকে ভরে যাক তোমাদের খাতার ধূসর সাদা খসখসে পাতা, প্রত্যেকের
মনন, পৃথিবী ও স্বপ্নলোক। সাহিত্য হচ্ছে আলোর পৃথিবী, সেই আলোয় আলোকিত হয়ে আমি কত
অসুন্দরকে সুন্দর শিল্পকলা হতে দেখেছি। সে মতো, তোমাদের এ উদ্যোগ ও বিফল হবে না।
আচ্ছা, সাহিত্য মানে বোঝ?
যদি এ প্রশ্ন করি, হয়ত তোমরা অনেকে, অনেক কথা বলবে। কেউ বলবে, সাহিত্য হচ্ছে
শিল্প, কেউ বলবে, একটি সুন্দর চিন্তার বহি:প্রকাশ। কেউ রবীন্দ্রনাথের চিন্তার
আলোকে বলবে, সাহিত্য মানে সহিত-জীবনের সহিত সংশ্লিষ্ট সকল কিছুই সাহিত্য। আমি
বলবো? তার আগে একটু ব্যক্তিগত বিষয়ে বলি-আমি যখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র
হিসেবে, গবেষক হিসেবে নিজেকে গড়বো বলে মনে-প্রাণে ধ্যানে মগ্ন, তখন অনেকে বাঙলা
পাচের মত মুখ ভ্যেংচিয়ে বলেছে ‘ও তুমি বাংলায় পড়? বাংলায় পড়াশুনা করি, একটু আধটু
কবিতা-টবিতা না লিখলে হয়? কিন্তু মনে তো ভাব আসা চাই। নইলে কবিতা লিখবো কেমন করে?
তাই কবিদের কাছাকাছি ঘুরঘুর করতে লাগলাম। যদি ভাব আসে এই ভেবে প্রতিদিন বিকেল হলেই
শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে যেতাম। আমার এক সহপাঠি কবি বন্ধু সজীব পুরোহিতের
সাথে মেলামেশার সুবাদে কবি শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুণ, সমুদ্র
গুপ্ত, রওশন ঝুনু, নাসির চৌধুরী সহ আরও অনেকের সাথে মিশতে গেলাম। তাদের তিন টাকার
চোলা মুড়ি আর দুই টাকার লাল চা খেতে লাগলাম। কিন্তু ভাব তো আসে না। কি লিখি কিভাবে
লিখি, চিন্তা করতে করতে একদিন সাহস করে দু:সাহসিক একটি কবিতা লিখে ফেললাম। খুব
আগ্রহ ভরে আমার কবি বন্ধুকে পড়ে শোনালাম। বন্ধু আমায় হতাশ করে বলল, ‘দোস্ত, ঢাকা
শহরে কাকের চেয়ে কবির সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে…..।’ কিন্তু আমি নিরাশ হয় নি। একদিন
আনমনে চারুকলার সামনে বসে থাকার সময় একজন পাগলকে পথচারিদের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধারের
কথা শুনে আমার মন ভালো হয়ে গেল। কি অদ্ভুত আমার মন? তার হাতে দেখেছি খবরের ছেড়া
কাগজ, কোন মানুষের ছবি। ওগুলো হাতে নিয়ে কী আবোল তাবোল বকতে থাকে তার মাথা মুন্ডু
কিছুই বোঝা যায় না। কিংবা বলা উচিত, তার কথা আসলে কোনদিন বুঝতে চেষ্টা করি নি।
পাগলের কথা তো আর কথা নয়-প্রলাপ। সে প্রলাপে কে কবে মনোযোগ দেয়? আমরা সকলে কথায়
কথায় টিপ্পনি কেটে বলে থাকি-‘ছাগলে কী না খায়, পাগলে কী না কয়?’ কিন্তু আমি বলি,
‘ছাগলে ঘুষ খায় না, আর পাগলে মিছা কথা কয় না। ’ পাগলেরাই সত্য কথা বলে, অথবা অজস্র
মিথ্যার বিড়ে যারা সত্য কথা বলে তারাই পাগল। আমি সুপ্রভাত সাহিত্য পরিষদ, কুষ্টিয়া
এর সকল সদস্যকে বলবো, তোমরা প্রত্যেকে এক একটা পাগল। তোমাদের এ পাগলামি কখনো যেন
থেমে না যায়। এগিয়ে যাও অনাবিল এ পৃথিবীর অবারিত প্রন্তরে।
মো: রশিদুল ইসলাম (সাগর রশিদ)
সভাপতি: সুপ্রভাত সাহিত্য পরিষদ, কুষ্টিয়া।
প্রোফাইল>>
মো: রশিদুল ইসলাম (সাগর রশিদ)
সভাপতি: সুপ্রভাত সাহিত্য পরিষদ, কুষ্টিয়া।
প্রোফাইল>>
