Copyrights @ Journal 2014 - Designed By Templateism - SEO Plugin by MyBloggerLab

নিহত মানব ( মনি হায়দার / গল্প )

Share
দেয়ালে ঝোলানো আয়নায় নিজেকে দেখতে দেখতে মাথায় চিরুনী চালায় আলম। আয়নাটা অনেক দিনের ব্যবহারে তার উজ্জল রঙ হারিয়ে ফ্যাকাসে রঙ ধারণ করেছে। ছোট্ট আয়নার মধ্যে আলমের বড় মুখ ধরে না। তারপরও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মুখটাকে দেখে সে। এই এক খেলা-নিজেকে দেখা কখনও মানুষের শেষ হয় না। অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে কয়েকবার মুখটাকে দেখে আলম। প্রতিদিনই দেখে। তারপরও মনে হয় না-মুখটা ঠিক আছে। কোথায় যেন একটা ঝামেলা লুকিয়ে থেকে দাত বের করে হাসছে। এইসব ভাবনার মধ্যে সে মাথায় শেষবারের মতো চিরুনী চালিয়ে ভেতরের রুম থেকে সামনের রুমে আসে। তাকায় ঘড়ির দিকে আটটা বেজে নয় মিনিট। চিন্তিত আলম সস্তা চৌকিতে বসে হাক দেয়-শিউলি?
আসছি-ভেতর থেকেশিউলির সুরেলা কণ্ঠ ভেসে আসে।
দেরী হচ্ছে-আলম তাড়া দেয়।
আলমের কথা শেষ হতে পারে না-শিউলি তিনটি টিফিন বক্স হাতে ঢোকে-এই নাও তোমার দুপুরের খাবার। গত দু তিন দিন ধরে টিফিন বক্সটাকে ভালো করে মাজতে পারি নাই, ময়লায় ধরেছে। আজকে একটু ভালো পরিস্কার করে মেজে দিলাম। তাই একটু দেরী হলো আর কি-
টিফিন ক্যারিয়ার হাতে নিতে নিতে দাড়ায় আলম-যাই? কথা বলতে বলতে দুজনে দরজার কাছে দাড়ায়। প্রতিদিনের অভ্যাস মতো পরস্পর তাকায় পরস্পরের দিকে। আরপ্রতিদিন শিউলি বলে-তাড়াতাড়ি এসো।
ঘাড় নাড়ে আলম-চেষ্টা করবো। এবং আলম লম্বা পা ফেলে এগিয়ে যায়। যতক্ষণ দেখা যায় আলমকে দৃষ্টির মীমানায় ততক্ষণ দরজায় দাড়িয়ে দেখে শিউলি। বিবাহিত এবং নাগরিক জীবনের তিন চার বছরের গড়ে ওঠা এই অভ্যাস দুজনের কেমন করে কিভাবে গড়ে উঠেছিল-কেউই জানে না। আলম জানে-পিছনে না ফিরেও, শিউলি দরজায় দাড়িয়ে আছে। ওর চোখ জোড়ার আকুল দৃষ্টি পিঠের উপর আছড়ে পরছে। এক ধরনের ভালো কিছু রেখে গেছো? শিউলি জানতে চায়।
না, সব নিয়েছি। কথা বলতে বলতে সে মানিব্যাগ বের করে তাকায় শিউলির দিকে, আলমের মুখে এক চিলতে হাসি। শিউলিও একটু অবাক। মানিব্যাগ থেকে দশ টাকার একটা নোট বের করে বাড়িয়ে ধরে শিউলির দিকে-এই টাকাটা রাখ।
হাসতে হাসতে শিউলি টাকাটা হাতে নয়-দশ টাকা দিয়া কি করবো?
আমার কাছেতো বেশি টাকা থাকে না-তাই তোমার কাছে দশ টাকা জমা রাখছি। যেদিন একশো টাকা হবে-আমাকে দিও।
সেই একশো টাকা দিয়া কি করবে? কৌতুক শিউলির কণ্ঠে।
পরে বলবো-একটা রহস্যময় হাসি মুখে বুঝিয়ে চলে যায় আলম। শিউলি ওর চলে যাওয়া দেখতে দেখতে আপন মনে হাসে-তার স্বামীটার মধ্যে ছোটখাট পাগলামী আছে। তবে মানুষের দু:খে কষ্টে মাঝেমধ্যে ভেঙে পড়ে। রাস্তা ঘাটে বাচ্চাদের ভিক্ষা করতে দেখে ও বাসায় এসে কাদে। নিজের সঙ্গে ঝগড়া করে-কেনো সে কিছু করতে পারে না! আলমের এই মর্মপীড়ন ও বেদনাকে শিউলি সম্মান করে। সংসারে কতো মানুষ-কিন্তু কতোজন তার স্বামীর মতো অনুভব করতে পারে? একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে শিউলি দরজা বন্ধ করে ভেতরে ঢোকে। অনেক কাজ পড়ে আছে-তরকারি কুটতে হবে, কাপড় কাচতে হবে-আলম কাপড় কাচা সাবানের ফ্যাকটরিতে চাকরি করে।
যদিও পদের নাম ম্যানেজার-কিন্তু করতে হয় সবই। মালিক লোকটা চামারের চামার। দূর সম্পর্কের আত্নীয় বটে-শ্বশুর বাড়ির দিক থেকে। শিউলির ধারণা-তাদের মানিক মামা খুব ভালো মানুষ। কষ্ট পাবে-কিংবাভুল বুঝতে পারে ভেবে আলম কিছু জানায় না। মানিক মামা সাবানে প্রচুর ভেজাল মেশায়, মিথ্যা বলে অবলীলায়।
শোন মিয়া জামাই-পানের পিক ফেলে ট্যারা চোখে তাকায় মানিক মিয়া-ব্যবসায় দুই একটা মিচা কতা না কইলে ব্যবসা চাংগে উঠবো। তখন বৌ বাচ্চা লইয়া না খাইয়া থাকন লাগবো। বুঝলা মিয়া জামাই? আবার পানের পিক ফেলে সে-এইসব ব্যাবসা বানিজ্রের কতা বাসায় গিয়া বৌরে ফুচুর ফুচুর কইরা কইও না-কইলাম। বৌওয়ের জাগায় বৌ, ব্যবসার জাগায় ব্যবসা।
প্রথম দিকে এসব আলামত দেখে খুব কষ্ট পেতো আলম। আবেগি হলেও আলম খুব সাদাসিদে ধরনের মানুষ। ঝামেলা একদম পছন্দ করে না। প্রাণপনে চেষ্টা করে সব কাজ সুচারুভাবে করতে। তারপরও মানিক মামা কোথথেকে যে ক্রটি আবিস্কার করে বুঝতে পারে না আলম। তখন দাতমুখ খিচিয়ে এমনভাবে কথা বলে মনে হয় গহীন বনের কোন শিম্পাজ্ঞির মুখোমুখি সে। শুরুতে খুব মন খারাপ হতো-এখন হয় না। সয়ে গেছে। মানুষ আসেলে এমনই। কারখানায় মোট আটজন কর্মচারী। বিরাট একটা পোড়া বাড়িতে শহরের উপকণ্ঠে মানিক মামার এই মল্লিকা সোপ ফ্যাক্টরী। ফ্যাক্টরীর সবার সঙ্গে আলমের ভালো সম্পর্ক। কাজ করিয়ে নিতে হলে সম্পর্ক ভালো রাখতেই হয়। বিশেষ করে দবিরউদ্দিন ছেলেটা একটা আস্ত বলদ। অবসর নেই বললেই চলে। সারাদিন মুখগুজে সাবানের জ্বালামুখেশরীর বিছিয়ে কাজ করে যায়। খাটুনী অনুপাতে বেতন খুবই কম-মুখে কোন রা নেই। সবচেয়ে সচেতন ছেলে মহিম। ছোটখাট শরীরে প্রবল তেজ-মুখে কথার খৈ ফোটে। লেখাপড়া জানলে অনেক দূর যেতে পারতো। বেতন নিয়ে কথা উঠায় সেদিন মহিম হাসতে হাসতে বলেছিল-আর মাস খানেক দেখবো আমার বেতন না বাড়াইলে মানিক মিয়ারে ধরে একদিন এমন ধোলাই দেবো-হাড় মাংস আলাদা হয়ে যাবে।
আলম চকিতে এদিক ওদিক তাকিয়ে মহিমের মুখ চেপে ধরে-আর একটা কথাও না। কেরামত শুনলে চকরি নট হয়ে যাবে। দবিরউদ্দিন ময়লা দাতে হাসে।
কেরামত কই? জানতে চায় আলম।
বাজারে গেচে হ্যার বাজার করতে-জবাব দেয় দবির।
মল্লিকা সোপ ফ্যাক্টরীর এক কোনায় নিজে রান্না করে খায় কেরামত। ওদের সঙ্গে কথা বলে কম। এক ধরনের ডাট নিয়ে চলে। কেরামত মানিকমিয়ার গোয়েন্দা। প্রতিরাতে একবার মানিক মিয়ার বাসায় তার যাওয়া চাই। মানিক মিয়া তার এই মল্লিকা সোপ ফ্যাক্টরীটাকে বিরাট কিছু মনে করে-নিজেকে একজন শিল্পপতির সমান ভাবে। আর কি কি করলে গাড়িঅলাদের মতো হোমরা চোমরা একটা কিছু হতে পারবে-সেই সব ভাবে। কিন্তু সমন্যা হচ্ছে-সে একজন আকাট মুর্খ। নিজের নামটাও লিখতে পারে না। ফলে মনের গভীর গোপন বাসানা ভেতরেই থেকে যায়। আর প্রতি সন্ধ্যায় কেরামতকে নিয়ে কারখানার লোকজনদের বিরুদ্ধে অহেতুক ঘোট পাকায়।
দুপুরে দবিরউদ্দিন,মহিম, হরলাল,করিম,আলম সবাই একসঙ্গে বসে ভাত খায়। যার যার বাসা থেকে তরকারি আসে-একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে পরম আত্নীয়ের মতো খায়। এবং এই খাওয়া পর্বটার জন্য প্রত্যেকে অপেক্ষা করে প্রতিদিন। একজনের তরকারি ভাগ করে দিতে বা অন্যর তরকারি নিয়ে খেতে খেতে একে জন গভীর নৈকট্য অনুভব করে। কারো তরিতরকারি খুব উন্নত নয়-মাংস মাসে একদিন থাকলেও থাকতে পারে, মাছ মাঝে মধ্যে থাকে। নিয়মিত থাকে আলু ভর্তা, ছোট মাছের সঙ্গে কোন তরকারি। আর কিছুনা থাকলে একটা ডিম ভাজা, সঙ্গে কয়েকটি ভাজা লংকা। মহিমের তরকারি যেদিন বেশি ভালো থাকে না-সেদিন একটু দূরে বসে খাবার চেষ্টা করে। ওর আবার প্রেস্টিজ জ্ঞান বেশি। নিজেকে কারো কাছে ছোট করতে চায় না। আলম নিজেই কাছে যায়-আরে ভাই, দূরে বসলেই কি দূরে যাওয়া যায়? আলম ভাই, এই আলুভর্তা আর ইচা মাছের সঙ্গে লালশাক সবার সামনে কি করে বের করি? সহিমের কণ্ঠে শ্লেষমাখানো আর্তি। জীবনটা আর ভালো লাগে না। হ্যা হ্যা শব্দে হাসে আলম-আরে ভাই, চিন্ত কি-আমরা সবাই একই জায়গা থেকে এসেছ।
মানে?
বুঝলেন না?
ঘাড় নাড়ে মহিম-না।
আমরা সবাই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে এসেছি। আমাদের বুক ভরা আশা আর চোখ ভরা রোদন ছাড়া কি আছে? দেন ভাবী কি তরকারি দিয়েছে-প্লেট বাড়িয়ে দেয়। আপনার সঙ্গে একদম পারা যায় না আলম ভাই-মুখে কপট হাসি ধরে রেখে তরকারি দেয় পাতে। কিন্তু আলমের মহত্বে ভেতরে দারুন খুশি মহিম। আলমকে তরকারি দিতে দেখে দু’একজন দৌড়ে আসে প্লেট হাতে-আমরা কি দোষ করলাম?
মহিমের আর একা খাওয়া হয় না। সবাই মিলে একাকার হয়ে যায়। এদের সঙ্গে কেরামত যোগ দেয় না। খেতে খেতে দবির দাতে দাত পেষে-শালা কেরামতকে ধইর‌্যা একদিন আচ্ছা মতো বাশঢালা দিতে অইবো।
কোনো? বেচারা মালিকের আবদুল আবার কি দোষ করলো? খোচা দেয় করিম। ব্যাটা লাটের লাট-আমাগো লগে খায় না! একা রানধে একা খায়-
আলম খাওয়া শেষ করে হাত মুখ ধুয়ে বসে-না দবির, এভাবে বলতে নেই।
প্লেট চাটতে চাটতে চায় দবির-ক্যান? কইলে কি অইবো?
প্রত্যেক মানুষের পছন্দ অপছন্দ আছে, আছে নিজের মতো করে থাকার অধিকার। কেরামত কোন কারণে মনে করে-সে একা খেলে ভালো খেতে পারবে। তাতে হয়তো সে মজাও পায়। আমাদের উচিত হবে না ওর ব্যক্তিগত ইচ্ছের উপর কিছু বলা।
তাইলে এক কাজ করি? দবিরের মুখে ক্রোধ।
কি?
বেচারা এতো কষ্ট করে-কেরামতের থালাবাটি ধুইয়া দেই?
আলম অবাক হয়ে দবিরের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। দবিরউদ্দিনকে সবাই বলদ বলে। দবির কি তাবই? কেরামতের অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে সে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করছে। আলম কি পারবে? দবির এবং দবিরের মতো মানুষেরা এই শক্তি কোথায় পায়?
বেশ কয়েকদিন পর এক সকালে আলম অফিসের প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছে সামনের রুমে-শিউলি কখন টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে আসবে। একটা টিকটিকি ডেকে ওঠে। চমকে তাকায় আলম। খুজে বের করার চেষ্টা করছে টিকটিকিটাকে। কোথাও দেখতে পায় না। ঘরে ঢোকে শিউলি, হাতে টিফিন ক্যারিয়ার। আলমের দিকে তাকিয়ে কৌতুকের সঙ্গে হাসে।
তুমি হাসছো কেনো? বিস্মিত আলম।
টিফিন ক্যারিয়ার হাতে দিয়ে পাশে বসে-তুমি একটা সত্যি কথা বলবে?
তুমি জানো, আমি অপ্রয়োজনে মিথ্যা বলি না।
তুমি একশো টাকা দিয়ে কি করবে?
আলম চমকে ওঠে-একশো টাকা জমা হয়েছে?
ঘাড় নাড়ে শিউলি-হয়েছে।
দাও-হাত বাড়ায় আলম।
মুখে রহস্যের ঢেউ এনে প্রশ্ন ছোড়ে শিউলি-আগে বলো টাকাটা দিয়ে কি করবে?
একজনকে দেবো।
কে সে?
তার নাম জানি না।
অবাক শিউলি-দশ টাকা করে জমিয়ে একশো টাকা বানিয়ে যাকে দেবে তার নামটা জানো না! আলম অসহায়বোধ করে-শিউলি, সত্যি আমি তার নাম জানি না। তবে মাঝে মধ্যে তাকে আমি চাচা বলে ডাকি। তুমিও তাকে চেনো।
আমিও চিনি?
হ্যা। আমাদের গলি পার হয়ে মেইন রাস্তায় উঠে কিছুদূর যাবার পর একটা সিরিজ গাছ আছে না?
আছে। তারপর?
সেই সিরিজ গাছের নীচে এক লুলা বয়স্ক মানুষ বসে বসে ভিক্ষা করে। তুমি দেখেছো না? দেখেছি। আমিতো মাঝেমধ্যে তাকে দু এক টাকা ভিক্ষাও দেই।
আমি কখেনও দেই নি।
সেজন্য একশো টাকা দিতে চাও?
ঠিক তা নয়, মানুষটার চোখেমুখে এক ধরনের সৌন্দর্য আছে। আমাকে দেখলেই একটা হাসি দিয়ে সালাম দেয়। আমিও প্রতিউত্তর দেই। প্রতিদিন তাকে অতিক্রম করে অফিসে চলে যাই। অনেক রাতে এলে তাকে দেখি না। আসা যাওয়ার পথের ধারে রোদে বৃষ্টিতে তাকে দেখতে দেখতে আমার মনে একটা-থেমে যায় আলম।
থামলে কেনো? আলমের কাধে হাত রাখে শিউলি। বলো-
মানুষটা হয়তো হোটেলে কোনোদিন খায় নি একবেলা। মানুষের খাওয়া ফুটপাতে বসে দেখেছে আর দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে। আমি তাকে এই সামান্য টাকাটা দিয়ে বলবো-হোটেলে একবেলা পেট ভরে খেয়ে নেবেন। অথবা জেনে নেবো তার বাসায় ছেলেমেয়ে কেউ আছে কি না! যদি থাকে তাহলে একটা মুরগি কিনে বাসায় নিয়ে যেতে বলবো, যাতে সবাই মিলে একবেলা মুরগির সালুন দিয়ে তৃপ্তির সঙ্গে ভাত খেতে পারে। তাকে আমার পথের আত্নীয় মনে হয়। মনে হয় মানুষটাকে আগে কোথায় যেন দেখেছি, ঠিক মনে করতে পারছি না।
শিউলি?
বলো।
আমি কি পাগলামি করছি?
কে বলে তুমি পাগলামি করছো? আমারতো মনে হয় তুমি করছো জগতের সেরা একটি কাজ। আমার সাধ্য থাকলে তোমাকে অনেক বড় একটা পুরষ্কার দিতাম। পুরষ্কার দিতে না পারলেও আমি তোমার জন্য গর্বিত।
লাজুক হাসে আলম।
অনেক দেরী হয়েছে, অফিসে যাও। আর টাকাটা নাও-শিউলি বুকের ভাজ থেকেদশ টাকারদশটি নোট বের করে আলমের হাতে দেয়। আলম টাকাটা গুনে তাকায় শিউলির দিকে, দমৃদু হেসে দুকে পকেটে রেখে একহাতে টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে দাড়ায়। আবার তাকায় শিউলির দিকে, দু'জনার মুখে বিম্ভিত মৃদু হাসি। আলম প্রতিদিনের মতো বের হয়ে চলে যায়, শিউলি দরজায় দাড়িয়ে তাকিয়ে থাকে। তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখদুটো হঠাত ঝাপসা হয়ে আসে। মানুষটির জন্য এক অনাবিল আনন্দে শিউলির বুক বর্ষার তুমুল প্লাবনের মতো ভরে ওঠে। আনন্দ বেদনার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সে রান্না ঘরে যায়, অনেক কাজ পরে আছে তার। থালাবাটি মাজতে মাজতে শিউলি গুনগুনিয়ে সুর তোলে-ভ্রমর কইয়ো গিয়া......। শিউলির থালাবাটি মাজা অর্ধেক হয়েছে, দরজায় কষাঘাত। কষাঘাতের শব্দে কাজ ফেলে আসতে আসতে ভাবে এই অসময়ে কে হতে পারে? পাশের বাসার কেউ হবে হয়তো, দরজা খুলে দেখে আলম দাড়িয়, মুখ বিষন্ন, চোখে জল টলোমলো।
কি হয়েছে? শিউলি হাত ধরে ভেতরে টানে আলমকে। আলম চৌকির উপর ধপাস শব্দেবসে। পাশে বসে দুহাতে জড়িয়ে ধরে শিউলি-তুমি এমন করছো কেনো? অফিসে না গিয়ে ফিরে এলে যে!
শিউলি?
বলো।
এই নাও-আলমের হাতে দশ টাকার দশটি নোট।
টাকাটা দিলে না তাকে?
শিউলিকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ওঠে আলম-মানুষটা গত রাতেমারা গেছে। এখন তার জানাজা হচ্ছে সিরিজ গাছ তলায়।

---সমাপ্ত