সম্রাজ্যবাদ ঔপনিবেশিক এর নায়াকৌশল হচ্ছে বাজার অর্থনীতি। আর এর অকল্যাণে তোমরা হয়তো
আজ আমার বাবার নামটি পর্যন্ত জানবে না। আর যারা আমার বাবার নাম জানো তারাও মিডিয়া
যুদ্ধের কারণে বিশ্বের দশজন বর্বর লোকের তালিকায় আমার বাবার নামটা দেখতে পাবে। আজ
দেশটির অস্থিত্ব বিশ্ব মানচিত্রে নেই সেটিই আমার বাবার দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর
আমার বাবার নাম স্ট্যালিন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমার বাবা সোভিয়েত ইউনিয়ন নামক রাষ্ট্রটির
প্রধান ছিলেন। তোমরা নিশ্চয়ই ভাবছো একজন রাষ্ট্র প্রধানের সন্তান হিসেবে আমরা একটা
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলাম। যেমন তোমাদের দেশগুলোতে হয়ে থাকে।
এ সময় কাজের সন্ধানে বের হতে হলো আমার ভাইকে। অবশেষে তার একটা চাকরি হলো
সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিক হিসেবে। এক্ষেত্রে আমার বাবার নাম কোনো কাজেই আসলো না।
তাতোদিনে সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করেছে হিটলারের জার্মান বাহিনী। আমার ভাইকে পাঠানো
হলো জার্মান-বাহিনীকে মোকাবেলা করার জন্য যে ব্যাটেলিয়ান গেলো সীমান্তের দিকে সে
ব্যাটেলিয়ানে। তখন জার্মানী থেকে যুদ্ধবিমান এসে আক্রমণ করে দেখে মনে হয় যেনো কালো
মেঘ ধেয়ে আসছে সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে। বিমান আক্রমণ শেষ হতে না হতেই, কামান আর
ট্যাঙ্কের গর্জন। সোভিয়েত বাহিনী কোনো ভাবেই পতিরোধ করতে পারছিলো না জার্মান
বাহিনীকে। তবুও তারা মরণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলো। এ যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সৈন্য
মারা গিয়েছিলো সোভিয়েত বাহিনীর এ কথা তোমরা নিশ্চয়ই জানো।
যুদ্ধের মধ্যে একদিন জার্মান বাহিনীর বিমান আর পদাতিক আক্রমণে ছিন্নভিন্ন
হয়ে গেলো আমার ভাইয়ের ব্যাটেলিয়ান। আমার ভাই বন্দী হলো জার্মান বাহিনীর হাতে।
বন্দী অবস্থায় জার্মান বাহিনী জেনে গেলো আমার ভাইয়ের পিতৃ পরিচয়। মুহূর্তেই এ খবর
চলে গেলো হিটলারের কাছে। হিটলার আমার বাবার কাছে চিঠি লিখলো-তাতে মূল বক্তব্য ছিলো
সোভিয়েত বাহিনীর হাতে বন্দী এক জার্মান জেনারেলকে মুক্তি দিলে জার্মান বাহিনী আমার
ভাইকে মুক্তি দিবে। আমার বাবা এ চিঠির উত্তরে লিখলেন-একজন জেনারেলের সাথে একজন
সাধারণ সৈনিকের কখনো যুদ্ধ বিনিময় হয় না।
ঘটনা এখানে শেষ না। জার্মানিতে আমার ভাইকে কোর্ট মার্শালের সম্মুখীন হতে
হলো। সেখানে তাকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয়া হলো। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে নানা ভাবে
বাবাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হলো। যেনো আমার ভাই মুক্ত হতে পারে। কিন্তু
আমাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হলো। বাবা তার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন। জার্মানিতে আমার
ভাইয়ের মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকরী হলো। বাবা সবই নিরবে দেখলেন।
সত্যি বিশ্বের দশজন বর্বর লোকের একজন আমার বাবা বলে তোমরা সবাই এখনো
বিশ্বাস করো।
