জন্ম: টাইঙ্গাইলের গুনি গ্রামে, ১লা ফাল্গুন ১৩৫০
পিতা: ছলিমইউ, খান
মাতা: রাবেয়া খান
পড়াশোনা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলা ভাষা ও সাহিত্য)
কবি রফিক আজাদের উল্লেখযোগ্য একটি কবিতা
পিতা: ছলিমইউ, খান
মাতা: রাবেয়া খান
পড়াশোনা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলা ভাষা ও সাহিত্য)
কবি রফিক আজাদের উল্লেখযোগ্য একটি কবিতা
ভাত দে হারামজাদা
ভীষণ
ক্ষুধার্ত আছি: উদরে, শারীরবৃত্ত ব্যেপে
অনুভূত
হতে থাকে-প্রতিপলে-সর্বগ্রাসী ক্ষুধা।
অনাবৃষ্টি-যেমন
চৈত্রের শস্যক্ষেত্রে-জ্বেলে দ্যায়
প্রভূত
দাহন-তেমনি ক্ষুধার জ্বালা, জ্বলে দেহ।
দু’বেলা
দু’মুঠো পেলে মোটে নেই অন্য কোনো দাবি,
অনেকে
অনেক কিছু চেয়ে নিচ্ছে, সকলেই চায়:
বাড়ি,
গাড়ি টাকাকড়ি-কারু বা খ্যাতির লোভ আছে:
আমার
সামান্য দাবি: পুড়ে যাচ্ছে পেটের প্রান্তর-
ভাত
চাই-এই চাওয়া সরাসরি-ঠান্ডা বা গরম,
সরু
বা দারুণ মোটা রেশনের লাল চালে হলে
কোনো
ক্ষতি নেই-মাটির শানকিভর্তি ভাত চাই;
দু’বেলা
দু’মুঠো পেলে ছেড়ে দেবো অন্য সব দাবি।
অযৌক্তক
লোভ নেই, এমনকি, নেই যৌনক্ষুধা-
চাইনি
তো: নাভিনিম্নে-পরা শাড়ি, শাড়ির মালিক;
যে
চায় সে নিয়ে যাক-যাকে ইচ্ছে তাকে দিয়ে দাও-
জেনে
রাখো: আমার ও-সবে কোনো প্রয়োজন নেই।
যদি
না মেটাতে পারো আমার সামান্য এই দাবি,
তোমার
সমস্ত রাজ্যে দক্ষযজ্ঞ কান্ড ঘটে যাবে;
ক্ষুধার্তের
কাছে নেই ইষ্টানিষ্ট, আইন-কানুন-
সম্মুখে
যা-কিছু পাবো খেয়ে যাবো অবলীলাক্রমে;
থাকবে
না কিছু বাকি-চলে যাবে হা-ভাতের গ্রাসে।
যদি
বা দৈবাৎ সম্মুখে তোমাকে, ধরো, পেয়ে যাই-
রাক্ষুসে
ক্ষুধার কাছে উপাদেয় উপচার হবে।
সর্বপরিবেশগ্রাসী
হলে সামান্য ভাতের ক্ষুধা
ভয়াবহ
পরিণতি নিয়ে আসে নিমন্ত্রণ করে।
দৃশ্য
থেকে দ্রষ্টা অব্দি ধারাবাহিকতা খেযে ফেলে
অবশেষে
যথাক্রমে খাবো: গাছপালা, নদী-নালা,
গ্রাম-গঞ্জ,
ফুটপাত, নর্দমার জলের প্রপাত,
চলাচলকারী
পথচারী, নিতম্ব-প্রধান নারী,
উড্ডীন
পতাকাসহ খাদ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর গাড়ি-
আমার
ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেলনা নয় আজ।
ভাত
দে হারামজাদা, তা-না-হলে মানচিত্র ভাবো।।
