Copyrights @ Journal 2014 - Designed By Templateism - SEO Plugin by MyBloggerLab

রফিক আজাদ

Share
জন্ম: টাইঙ্গাইলের গুনি গ্রামে, ১লা ফাল্গুন ১৩৫০
পিতা: ছলিমইউ, খান
মাতা: রাবেয়া খান
পড়াশোনা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলা ভাষা ও সাহিত্য)









কবি রফিক আজাদের উল্লেখযোগ্য একটি কবিতা

 ভাত দে হারামজাদা


 ভীষণ ক্ষুধার্ত আছি: উদরে, শারীরবৃত্ত ব্যেপে
অনুভূত হতে থাকে-প্রতিপলে-সর্বগ্রাসী ক্ষুধা।
অনাবৃষ্টি-যেমন চৈত্রের শস্যক্ষেত্রে-জ্বেলে দ্যায়
প্রভূত দাহন-তেমনি ক্ষুধার জ্বালা, জ্বলে দেহ।

দু’বেলা দু’মুঠো পেলে মোটে নেই অন্য কোনো দাবি,
অনেকে অনেক কিছু চেয়ে নিচ্ছে, সকলেই চায়:
বাড়ি, গাড়ি টাকাকড়ি-কারু বা খ্যাতির লোভ আছে:
আমার সামান্য দাবি: পুড়ে যাচ্ছে পেটের প্রান্তর-
ভাত চাই-এই চাওয়া সরাসরি-ঠান্ডা বা গরম,
সরু বা দারুণ মোটা রেশনের লাল চালে হলে
কোনো ক্ষতি নেই-মাটির শানকিভর্তি ভাত চাই;
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে ছেড়ে দেবো অন্য সব দাবি।

অযৌক্তক লোভ নেই, এমনকি, নেই যৌনক্ষুধা-
চাইনি তো: নাভিনিম্নে-পরা শাড়ি, শাড়ির মালিক;
যে চায় সে নিয়ে যাক-যাকে ইচ্ছে তাকে দিয়ে দাও-
জেনে রাখো: আমার ও-সবে কোনো প্রয়োজন নেই।
যদি না মেটাতে পারো আমার সামান্য এই দাবি,
তোমার সমস্ত রাজ্যে দক্ষযজ্ঞ কান্ড ঘটে যাবে;
ক্ষুধার্তের কাছে নেই ইষ্টানিষ্ট, আইন-কানুন-
সম্মুখে যা-কিছু পাবো খেয়ে যাবো অবলীলাক্রমে;
থাকবে না কিছু বাকি-চলে যাবে হা-ভাতের গ্রাসে।

যদি বা দৈবাৎ সম্মুখে তোমাকে, ধরো, পেয়ে যাই-
রাক্ষুসে ক্ষুধার কাছে উপাদেয় উপচার হবে।
সর্বপরিবেশগ্রাসী হলে সামান্য ভাতের ক্ষুধা
ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসে নিমন্ত্রণ করে।
দৃশ্য থেকে দ্রষ্টা অব্দি ধারাবাহিকতা খেযে ফেলে
অবশেষে যথাক্রমে খাবো:  গাছপালা, নদী-নালা,
গ্রাম-গঞ্জ, ফুটপাত, নর্দমার জলের প্রপাত,
চলাচলকারী পথচারী, নিতম্ব-প্রধান নারী,
উড্ডীন পতাকাসহ খাদ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর গাড়ি-
আমার ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেলনা নয় আজ।

ভাত দে হারামজাদা, তা-না-হলে মানচিত্র ভাবো।।